উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থানই মূল লক্ষ্য: সাইফুল ইসলাম সোহেল

উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থানই মূল লক্ষ্য: সাইফুল ইসলাম সোহেল

১৪ Oct ২০২৬

শুধু ব্যবসায়িক মুনাফা অর্জন নয়, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং কল্যাণমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে চায় অতিথি গ্রুপ। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তরুণদের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এমন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন গ্রুপটির চেয়ারম্যান লায়ন সাইফুল ইসলাম সোহেল (পিএমজেএফ)।

 

বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য কেবল আর্থিক মুনাফা কিংবা বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব দিয়ে বিচার করা যায় না। ব্যবসার পাশাপাশি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি, নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলা এবং টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাও গুরুত্বপূর্ণ। অতিথি গ্রুপ সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই কাজ করছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনের গ্র্যান্ড বলরুমে অতিথি গ্রুপ আয়োজিত ‘অতিথি ওভারভিউ প্রোগ্রামে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক লায়ন ড. মো. আশরাফুর রহমান।

 

লায়ন সাইফুল ইসলাম সোহেল বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য কেবল আর্থিক মুনাফা কিংবা বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব দিয়ে বিচার করা যায় না। ব্যবসার পাশাপাশি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি, নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলা এবং টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাও গুরুত্বপূর্ণ। অতিথি গ্রুপ সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই কাজ করছে।

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য কেবল একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবসা সম্প্রসারণ করা নয়; বরং দেশীয় মেধা ও আন্তর্জাতিক বাজারের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করা। অতিথি ডট কম সেই ভাবনা থেকেই কাজ করছে। আমরা চাই, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন ও দক্ষতার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান তৈরি করুক।’

 

দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য দক্ষতা ও মেধার বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করে অতিথি গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, শুধু কর্মসংস্থান সৃষ্টি করলেই হবে না, এমন কর্মপরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে মানুষের দক্ষতা বিকশিত হবে এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ তৈরি হবে। বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে তরুণদের যুগোপযোগী দক্ষতায় গড়ে তোলা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিথি লিমিটেডের উপদেষ্টা ও সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল আবু তাহের, অতিথি এভিয়েশন অ্যান্ড ওভারসিজ লিমিটেডের পরিচালক লায়ন আলী আহমাদ মাহমুদ, অতিথি লিমিটেডের পরিচালক (অপারেশন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এস এস ফেরদৌস, অতিথি সফটওয়্যার সলিউশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান লায়ন আফিয়া কনক এবং অতিথি লিমিটেডের পরিচালক (প্রশাসন) লায়ন ড. মো. সিরাজুল ইসলাম।

 

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন অতিথি প্রপার্টিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান লায়ন এম নজরুল ইসলাম চৌধুরী, অতিথি সিটি অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান লায়ন এস এম শাহীন, অতিথি এভিয়েশন অ্যান্ড ওভারসিজ লিমিটেডের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) লায়ন আব্দুল হান্নান, অতিথি লিমিটেডের পরিচালক লায়ন মো. নূরনবী মৃধা, অতিথি সিটি অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের পরিচালক লায়ন প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান আজাদ এবং অতিথি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশন লিমিটেডের পরিচালক লায়ন মো. ইসমাইল মিয়া।

 

অনুষ্ঠানে বক্তারা সেবা খাতের আধুনিকায়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জাতীয় অর্থনীতিতে এ খাতের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁরা বলেন, সমন্বিত পরিকল্পনা, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরেও ব্যবসার নতুন সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

 

সভাপতির বক্তব্যে লায়ন ড. মো. আশরাফুর রহমান অতিথি গ্রুপের সাংগঠনিক ও কৌশলগত পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সততা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে অতিথি ডট কম গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে কাজ করছে। ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তরুণদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অতিথি গ্রুপের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য বড় প্রকল্প নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণে সৌজন্য নৈশভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।